কীভাবে ঈমানের সাথে বিপদ-মুসিবত মোকাবেলা করবেন?

 

কীভাবে ঈমানের সাথে বিপদ-মুসিবত মোকাবেলা করবেন?


আমি আপনাদের সাথে একটি শব্দের অর্থ শেয়ার করতে চাই যা সাধারন অনুবাদ করা হয় দুর্ঘটনা বিপদ এর জন্য কুরআনের শব্দ হলো মুশিবা আপনারা যারা ভারতীয় উপমহাদেশের অনেকেই হয়তো মুসিবত শব্দটি ব্যবহার করে থাকেন.


আর কোনো দুর্ঘটনা বা বিপদ-আপদ বোঝাতে এটি ব্যবহার করা হয় শব্দটি নির্গত হয়েছে আরবি শব্দ অসাবা থেকে। কোন লক্ষ্যে আঘাত হানা বা কোন লক্ষ্য কে সঠিক ভাবে আঘাত করা কুরআন কৌশলগত উপায় অন্য শব্দ কারিকা  জাতীয় দুর্ঘটনা বা ট্র্যাজিডি বোঝানো হয়। এই শব্দটা ব্যবহার করার পরিবর্তে মুসিবা শব্দটি ব্যবহার করেছে এই মুহূর্তে ব্যবহার করার মাধ্যমে কোরআন ইঙ্গিত করছে যে যে বিপদ আপদে আঘাত আনুক না কেন তা আসলে একটি লক্ষ্যে আঘাত হয়েছে।  তাই যে বিপদে ঘটুক না কেন তা আসলে অপ্রত্যাশিত কোনো ঘটনা নয়। এই ঘটনাটি আমার সাথে কেন ঘটল এমন প্রশ্ন করা অর্থহীন কারণ এই ঘটনাটি আপনার সাথে ঘটার কথা ছিল না আবার যদি প্রশ্ন করেন এখন কেন ঘটল উত্তর হল.


অন্য কোন সময় এটি ঘটার কথা ছিল না আমাদের জীবনে যেসব বিপদ-আপদ ঘটে তার জন্য কোরআনে এমন একটি পরিভাষা ব্যবহার করা হয়েছে আর জীবনে ধরনের মুসিবত পরিপূর্ণ আল্লাহ বলেন আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি কষ্ট ক্লাসের মধ্যে এমনটি আসলে মানব জীবনের একটা অংশ প্রসঙ্গত এই সমস্ত মুসিবতে প্রকৃতি কেমন একদিকে আমরা শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন ঘূর্ণিঝড়,  ভূমিকম্প,  আগ্নেয়গিরির,  অগ্নুৎপাত,  টর্নেডো হারিকেন নিয়ে কথা বলছিলাম এগুলো বিপদ আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা'আলা অন্যত্র বলেছেন পৃথিবী ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর কোন বিপদ আসে না কিন্তু তার জগত সৃষ্টির পূর্বে কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে মানুষের জীবনে শুধু এই এক ধরনের বিপদে আসেনা ভূমিকম্প কোন বা দেশে আঘাত হানে তাই নয় আমাদের নিজেদের ভিতর ভূমিকম্প ঘটতে পারে ।  তোমাদের নিজেদের ভিতর স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিশাল দুর্যোগ দেখা দিতে পারে ছেলে মেয়ে বা মাতা-পিতার মাঝি দুর্যোগ দেখা দিতে পারে অথবা এমন কারো মাঝে যে,


কঠিন কোন পারিবারিক ঝামেলায় জড়িয়ে আছে অনেক মানুষ আছেন যারা অর্থনৈতিক সমস্যায় জর্জরিত অনেক মানুষ নানা ধরনের ভয়ঙ্কর মানসিক বা শারীরিক সমস্যায় জড়িয়ে আছেন মোটকথা মানুষের বিপদ মুসিবত এর কোন অন্ত নেই এখানে যে বিষয়টি প্রকাশ করতে চাই তাহলে বিপদ মুসিবত মোকাবেলার ক্ষেত্রে আমাদের ঈমানের ভূমিকা আসলে কি আমরা যে আল্লাহর উপর বিশ্বাস করি তা বিপদ মোকাবেলায় কিভাবে আমাদেরকে সাহায্য করে একজন বিশ্বাসী হিসেবে বিপদ-মুসিবত আপতিত হলে কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাবো আর এটা আসলে নির্ভর করে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক থাকা বলতে কী বোঝায় তার উপলব্ধির মার্তা  উপরে.



প্রথমে আমি যে বিষয়টা শেয়ার করতে চাই তা হলো দুই ধরনের খারাপ পরিস্থিতির পার্থক্য নিরূপণ এর ক্ষেত্রে কুরআন খুবই প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছে এক ধরনের খারাপ পরিস্থিতির যেটা দেখতে খারাপ মনে হয়। সম্পূর্ণরূপে আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে এমন পরিস্থিতিতে আপনার কিছুই করার থাকেনা.



যেমন আপনি বন্যায় আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন আরে বন্যা আপনি ঘটাননি আপনি জাস্ট ওই এলাকায় বসবাস করেন এটাই আমার কোনো সুযোগ হয়নি অথবা আপনি সেখানে বেড়াতে গেছেন। আর বন্যা আটকা পড়েছেন আপনি জানতেন না যে আমার কিছু ঘটবে এ সম্পর্কে কোন রিপোর্ট ছিল না তাই এই বিপদে আপনি নিজের কারণে পড়েনি এটা সম্পূর্ণ আল্লাহ পরিকল্পনা এখানে আপনার করার কিছুই নেই। আর আপনি এর থেকে কোন ভাবে বের হতে পারতেন না এখন এটা এমন কারো বিপদে পড়ার থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন যে কিনা পত্রিকায় পড়েছে যে ঘূর্ণিঝড় আসছে দয়া করে শহর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিন। শুনামি হতে পারে তখন সে বলল সমুদ্র সৈকত দেখার এটাই সেরা সময় এবং সমুদ্র সৈকতের দিকে চলে গেলেন তারপর তার খারাপ কিছু হল।  এখন সে এমন তা বললে হবে না যেটা আল্লাহর আল্লাহর ইচ্ছার কারণে আমি এই বিপদে পড়লাম না আপনি আমাকে বলতে পারেন না আর আল্লাহ এই ব্যাপারে খুবই পরিষ্কার তিনি সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলছেন তোমাদের উপর যেসব,


বিপদ-আপদ পতিত হয় তা তোমাদের কর্মের ফল তুমি নিজেই নিজের উপর এটা আরোপ করেছে এখন শুধুমাত্র এভাবে চিন্তা করাটাও সমস্যাজনক কারো যদি আপনি সিঁড়ি থেকে নামার সময় পিছলে পড়ে যান তখন ভাবতে শুরু করেন আমি নিশ্চয়ই কোন পাপ করেছি তাই আল্লাহ আমাকে সিঁড়ি থেকে পড়ে যেতে দিয়েছেন এটা আল্লাহর নিকট থেকে কোন একটা সংকেত আমি নিশ্চয়ই কোনো খারাপ কাজ করেছি তাই আমার পা ভাঙ্গার মাধ্যমে আল্লাহকে শিক্ষা দিয়েছেন.


আপনি নিজের মতো করে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোকে বিশ্লেষণ করতে থাকেন আপনি অদৃশ্য কার্যকরণ নিয়ে ভাবতে শুরু করেন এই ধরনের চিন্তা চরম পর্যায়ে চলে যেতে পারে এখানে আমি যে বিষয়টি যোর  দিতে চাই তা হল আল্লাহর উপর বিশ্বাসীরা দুই ধরনের এক্সট্রিম পর্যায়ে চলে যেতে পারেন একটি এক্সট্রিম পর্যায় হলো সবকিছুই আল্লাহর ইচ্ছে হচ্ছে আমার এখানে করার কিছুই নেই যাই ঘটুক না কেন আপনি আমাকে দোষ দিতে পারেন না এটা আল্লাহর কদর.


আল্লাহর নির্দেশ ব্যতিরেকে কোন বিপদ আসে না তিনি সূরা তাগাবুন এই কথা বলেই দিয়েছেন তিনি সরাসরি কথা বলেছেন এটা আল্লাহর অনুমতিতে ঘটে আল্লাহ পরিকল্পনা এমনই ছিল। 


এখানে আমার করার কি আছে এখন কোন ছাত্র যদি কোন পড়ালেখা না করে বিদ্যালয়ের  কোন অ্যাসাইনমেন্ট জমা না দেয় তারপর পরীক্ষার ফেল করে এবং তার ফলটা কি বিদ্যালয় থেকে বহিস্কৃত হতে হয় আর যদি সে জবাবে বলে এটা আল্লাহর কদর  আমার কি করার আছে। 


 দ্বিতীয়টি হলো এমন অনেক বিশ্বাসী আছেন যারা সবকিছুর জন্য নিজেকে দোষ দেন আল্লাহ আমাকে এত সব বিপদে ফেলেছেন কারণ আমি খুবই খারাপ একজন মানুষ বিষয়টা নিজ থেকে না ঘটলেও অনেক সময় আশপাশের অযোগ্য মানুষটাকে পরিবার থেকেও হতে পারে তারা এসে আপনাকে বলে জানো কেন এটা ঘটল কারণ তুমি একদম খারাপ কন্না কেন এটা ঘটেছে জানো কারণ তুমি একজন খারাপ পুত্র কেন এটা ঘটল কারণ তুমি তোমার শ্বশুর বাড়ির লোকজনের সাথে ভালো আচরণ করো না ট্রাক আমাকে আঘাত করেছে এ কারণে ট্রাক ড্রাইভার ট্রাফিক সিগনাল মানে নি. 


আমি আমার স্ত্রী বা অন্য কারো সাথে ঝগড়া করার কারণে এমনটি ঘটেনি এভাবে অন্য মানুষরা এসে আপনাকে বলবে অমুক অমুক কারণে আল্লাহ তোমাকে বিপদে ফেলেছেন। কারণে আল্লাহ তোমাকে বিপদে ফেলেছেন মনে হয় যেন অদৃশ্য জগত থেকে তারা কোন ইমেইল পেয়েছে যে কারণে এমনটি ঘটেছে। এই রকমের 2 ধরনের এক্সট্রিম চিন্তা পদ্ধতি আছে এখন কোরআন কি করে কোরআন সবকিছুর মতো এখানেও ভারসাম্য দান করে প্রসঙ্গত এই ভারসাম্যপূর্ণ উপলব্ধি যদি আপনার না থাকে জীবনের অনেক কিছুই তাহলে মেলাতে পারবেন না। কোরআনের এই কথায় আল্লাহর যিকির দ্বারাই অন্তর শান্তি লাভ করে এটা অন্য একটা অর্থ দান করে প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর চূড়ান্ত জিকির তথা যিকরুল্লাহ হল আল্লাহ কিতাব আর আল্লাহর কিতাব তাই আমি যুক্তি দেখাবো আপনি যদি জীবনের সমস্যাগুলোকে কোরআনের আলোকে বুঝতে ব্যর্থ হন তাহলে সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ জিকির করা সত্ত্বেও আপনার অন্তরের প্রশান্তি পাবেন না।  আপনি যদি আন্তরিক হন ইনশাল্লাহ প্রশান্তি পাবেন কিন্তু এখানে উদ্দেশ্য হল এই ব্যাপারটা সঠিকভাবে উপলব্ধি করা যে আল্লাহ কিভাবে আমাদের সাথে আচরণ করেন তাই আমি এই সম্পর্কে আপনাদের সাথে কিছু কথা শেয়ার করতে চাই এখন নিজেকে দোষ দেয়ার ক্ষেত্রে কোন জায়গায় আমরা দাগ টানবো কিভাবে বুঝবো যে এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে আর এটা আমার দোষ. আপনি এই দাগটা কোথায় টানবেন.


 

বস্তুগত জগতে এটা বোঝা খুবই সহজ অবস্তুগত জগত বলতে আমি কি বুঝাচ্ছি যেমন আমার গাড়িতে যদি আমি গ্যাসোলিন দেয়ার পরিবর্তে পানি দেই তারপর এটা না চলে তখন পরিষ্কার ভাবে আমি বলতে পারি না যেটা আল্লাহর পরিকল্পনা অথবা আপনি যদি সবসময় জাঙ্কফুড খেতে থাকেন মিষ্টিজাতীয় খাবার সবসময় খেতে থাকেন তারপর 45 বছর বয়সে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন তখন আপনি বলতে পারেন না ইয়া আল্লাহ আমি কি বিপদে পড়ে গেলাম এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা না। 


 এটা আপনার মন্ধ খাদ্যাভ্যাসে পরীক্ষা আপনি শসা না খেয়ে সুইসবল খেতেন ভাই আপনি যা  এরকম খেতেন না কেন আপনি জাঙ্কফুড খেতেন তাই এমনটা ঘটেছে। সুতরাং, বস্তুগত জগতে কমনসেন্স দিয়ে সবাই কারণ এবং ফলাফল বুঝতে পারে নৈতিক জগতে আপনি সালাত মিস করলেন কারণ দেরিতে ঘুম থেকে জেগেছেন ফজর নামাজ পড়তে পারেননি এখন দেরিতে পড়েছেন একই দিনে আপনার একটা চাকরির ইন্টারভিউ ছিল ইন্টারভিউ ভালো হয়নি.


তখন আপনি ভাবতে থাকলেন এমনটি ঘটেছে কারণ আমি সালাত মিস করেছি এখন এর উত্তর হল সালাত মিস করার কারণে এমনটি হতে পারে আবার নাও হতে পারে.



নিশ্চিত করে জানার কোন উপায় নেই আপনি বা অন্য কারো পক্ষে এর আসল কারণ জানা কখনোই সম্ভব না কিন্তু যে জিনিসটা আপনাকে সাহায্য করবে তাহলে আল্লাহ বলছেন আমি আমার বান্দার নিকট তেমন যেমনটি  সে আমার সম্পর্কে ধারনা করে।



আপনি যদি ধারণা করেন নামাজ মিস করার কারণে আল্লাহ আপনার উপর প্রতিশোধ নিয়েছে তাহলে আপনার নিকট আল্লাহ তেমনই.


কিন্তু আপনি যদি এভাবে চিন্তা করেন যে আমি আমার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি ইন্টারভিউতে ভালো উত্তর দিয়েছি এটা সম্ভবত আমার জন্য ভালো চাকরি নয় যদি ভালো চাকরি হতো তাহলে আল্লাহ আমার জন্য এর ব্যবস্থা করে দিতেন এখন আপনার যদি এই দৃষ্টিভঙ্গি থাকে তাহলে আপনার সকল ভুল ত্রুটি সত্ত্বেও আল্লাহর নিকট তেমনি আমাদের দায়িত্ব হলো যখন আমরা ভুল করি তখন ইস্তেগফার করা আল্লাহর প্রতিশোধের জন্য অপেক্ষা করা আমাদের কাজ নয় ব্যাপারটা বুঝতে চেষ্টা করুন আমাদের কাজ এটা নয় যে ও আমি তো পাপ করে ফেলেছি এখন আল্লাহ কোন না কোন ভাবে আমাকে শাস্তি দিবেন এই জন্যই আল্লাহ বলছেন তোমাদের উপর যেসব বিপদ-আপদ পতিত হয় তাদের কর্মের ফল তোমরাই তোমাদের দুই হাতে এটা অর্জন করেছ তুমি নিজেই নিজের জন্য এটা ক্রয় করেছ.


এমনকি আধ্যাত্মিক জগতেও আমাদের কর্মের কারণে আমাদের উপর বিভিন্ন বিপদ-আপদ পতিত হতে পারে যেমন আপনি যদি ক্রমাগত মাতা পিতার সাথে খারাপ আচরণ করতে থাকেন এবং আপনার উপর কোন মুসিবত আরোপিত হয় এতে সম্ভবত কোন কানেকশন রয়েছে এই সমস্ত ক্ষেত্রে আল্লাহ তোমাদের গুন্নাহ ক্ষমা করে দেন। 


Comments